পাঠ্যক্রম উন্নয়ন

রুহি ইনস্টিটিউট, পাঠ্যক্রম উন্নয়নের জন্য যে পদ্ধতি অনুসরণ করে, তা মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পূর্বক ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার গতানুগতিক ধাঁচ এর  প্রক্রিয়া নয়। বরং, যেকোনো শিক্ষাসামগ্রী তৈরির প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয় তখনই, যখন কোনো সম্প্রদায়ের উন্নয়নের প্রয়োজন অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে কোনো সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা সৃষ্টি হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষাসামগ্রী তৈরি হয় এবং তা সেই অভিজ্ঞতারই একটি প্রকাশ হয়ে ওঠে। একদিকে, এসব শিক্ষাসামগ্রী কোনো নির্দিষ্ট সেবার ক্ষেত্রে প্রভু ধর্মের শিক্ষার প্রয়োগ থেকে অর্জিত জ্ঞানের একটি রেকর্ড হিসেবে কাজ করে, আর অন্যদিকে, সেই জ্ঞানকে পদ্ধতিগতভাবে সাজানোর একটি উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। Learning About Growth নামের ছোট একটি গ্রন্থে এই পদ্ধতিকে নিম্নলিখিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে—

যখন কোনো শিক্ষাগত প্রয়োজন চিহ্নিত করা হয়ে যায়, তখন তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা একটি ছোট দল নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে, শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কিছু ধারণা তৈরি করে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে। এই বাস্তব প্রয়োগের ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও পরামর্শ করা হয়; এই পরামর্শের ভিত্তিতে সংশোধিত শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের একটি সেট পুনরায় বাস্তবায়ন করা হয় এবং এমন এক অনুচিন্তন এর আওতায় আনা হয়, যা আরও সংশোধন ও পরিমার্জনের দিকে নিয়ে যায়। পাঠ্যক্রম উন্নয়নের এই প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই কর্মকাণ্ড কে এ জন্য থেমে রাখা হয়না যে  চূড়ান্ত শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত ও মূল্যায়ন আগে শেষ হোক। প্রতিটি ধাপেই, হাতে থাকা সেরা উপকরণ ব্যবহার করে শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলে—এই প্রত্যয়ে যে, শুধুমাত্র বাহাউল্লাহর প্রত্যাদেশের আলোকে অনুশীলন ও অনুচিন্তনের মাধ্যমেই, ধীরে ধীরে অধিকতর উপযুক্ত পাঠ্যক্রমের ক্রমবিকাশ হতে পারে। তবে, বিন্যাসটি এমন নয় যেখানে কেবল কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ব্যবহারের জন্য শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করছে; বরং, যখন কোনো এক পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিটের কাঠামো ও বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তখন তা এমনভাবে কারা হয় যাতে অন্যরাও তা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট কোর্সের জন্য শিক্ষাসামগ্রীর চূড়ান্ত সংস্করণ প্রকাশের সিদ্ধান্ত কেবল তখনই নেওয়া হয়, যখন দেখা যায় যে পরিবর্তন বা সংশোধন প্রায় নেই বললেই চলে। এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, পরামর্শ, কর্মকাণ্ড ও অনুচিন্তনের এই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক পরস্পরের সমান্তরালে পরিচালিত হয়—তবে তা কোন ধারাবাহিক সহজাত কৃত্রিম প্রক্রিয়ার মতো নয়।

In practice the above approach takes divers forms, depending on the nature of the material in development. Generally, however, some three stages can be identified in the development process, which gives rise to what is considered the final published edition. 

  1. প্রাথমিক রূপরেখা
    এই পর্যায়ে একটি পাঠ্যক্রম বা গ্রন্থে মৌলিক ধারণাগুলো এবং বাহাই লেখনীর কিছু নির্বাচিত অংশ থাকে, যা একত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক বলে বিবেচিত হয়। কার্যকর পাঠ্যবস্তু প্রণয়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, কিছু সময়ের জন্য এই প্রাথমিক রূপরেখাটি মাঠ পর্যায়ে ছোট ছোট দল দ্বারা ব্যবহার করা হয়।

  2. আলফা সংস্করণ
    কর্মকাণ্ড যত এগোয়, উপকরণটি পরিমার্জিত হয় এবং নতুন অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করে, উদ্ভূত ধারণাগুলি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।  অনেক সময় কিছু ধারণা সংশোধিত হয়, বাহাই লেখনী থেকে নতুন কিছু অংশ যোগ করা হয়, অথবা সহজ কিছু অনুশীলন সংযোজন করা হয় যেন কোনো বিষয়ের বোধগম্যতা সহজ হয় অথবা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা বা মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সুসংহত পাঠ্যক্রম বা গ্রন্থ রূপ নেয়, যা সাধারণভাবে “আলফা সংস্করণ” হিসেবে বিবেচিত হয়।

  3. প্রাক-প্রকাশনা সংস্করণ
    সময়ের সাথে সাথে, সাধারণত বিষয়বস্তুর অখণ্ডতার ভিত্তিতে, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে পাঠ্যক্রম বা গ্রন্থটিকে আরও ব্যাপকভাবে উপলব্ধ করা হবে প্রাক-প্রকাশনা সংস্করণ হিসেবে। এর ধারাবাহিক ব্যবহারের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে কখন কোনো অংশ স্থানান্তর করা প্রয়োজন বা একটি-দুটি অনুশীলন সংশোধনের দরকার আছে। একাধিক ধারাবাহিক সংস্করণ প্রকাশিত হতে পারে। তবে পর্যায়ক্রমে উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ কমতে থাকে, এবং এক পর্যায়ে উপকরণটি প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত হয়।