উদ্দেশ্য ও পদ্ধতির বিবৃতি

রুহি ইনস্টিটিউট একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা কলম্বিয়ার বাহা’ই সম্প্রদায়ের জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি কলম্বিয়ার জনগণের আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ বিকাশে নিজেদের প্রচেষ্টাসমূহ নিবেদিত করেছে। যদিও এর কেন্দ্র কাউকা বিভাগের পুয়ের্তো তেহাদা শহরে অবস্থিত, তবে এর প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে সমগ্র দেশজুড়ে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, এর শিক্ষামূলক কর্মসূচিগুলো বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দ্বারা গৃহীত হয়েছে।

যে কোনো উন্নয়নমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতোই, রুহি ইনস্টিটিউটও একটি বিশেষ কর্মকাঠামো এবং সামাজিক পরিবর্তন, উন্নয়ন ও শিক্ষার দর্শনের পরিসীমার মধ্যে তার কৌশলসমূহ প্রণয়ন করেছে। এ ক্ষেত্রে, এই উপলব্ধি, সামাজিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণে বাহা’ই নীতিগুলিকে ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করার প্রচেষ্টা হতে উদ্ভূত হয়েছে।


বাহা’ই ধর্ম মানবীয় কর্মকাণ্ডের বর্তমান পরিস্থিতিকে জৈব প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করে, যা অবশেষে একটি অভিন্ন সামাজিক ব্যবস্থার মধ্যে মানবজাতির ঐক্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে। মানবজাতি সামগ্রিকভাবে এমন সব বিবর্তনমূলক ধাপ অতিক্রম করেছে, যা সাধারণত একক ব্যক্তির জীবনে ঘটে থাকে; শৈশব ও বাল্যকাল অতিক্রম করার পর এখন এটি অশান্ত কৈশোরের জটিল ও চূড়ান্ত মুহূর্তের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিভ্রান্তি, সন্দেহ ও সংঘাতময় পরিস্থিতিকে কেবল একজন কিশোরের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা যায়—যে প্রবলভাবে বিকাশ ও পরিপক্বতা কামনা করে, কিন্তু এখনো শৈশবসুলভ অভ্যাস ও মনোভাব আঁকড়ে ধরে আছে। তবে এখন এই কিশোরটির চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং গঠনমূলক ও গতিশীল এবং সেই সাথে পরিপক্কতা ও প্রাপ্তবয়স্কতার ভারসাম্যপূর্ণ দশায় প্রবেশ করার সময় এসেছে।


বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনগুলি বিশ্লেষণ করে, বাহা’ইরা দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়া সনাক্ত করেছে যা গ্রাম, শহর, জাতি এবং বিশ্ব সমাজ এর সকল স্তরে কাজ করছে। একদিকে, এটা স্পষ্ট যে মানব সমাজ এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়ায় ভুগছে, যা যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, বিশৃঙ্খলা, শারীরিক ও মানসিক অনিরাপত্তা, এবং প্রসারমান ভৌতিক দারিদ্র্য প্রকটিত করছে। অপরদিকে, একীকরণের শক্তিগুলো ব্যক্তিদের ও গোষ্ঠীগুলোকে নতুন মূল্যবোধ গ্রহণের দিকে, নতুন ধরনের সংগঠন গড়ে তোলার দিকে এবং এমন সব কাঠামো নির্মাণের দিকে ধাবিত করছে, যা একটি নতুন সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। রুহি ইনস্টিটিউট আমাদের সময়ের আধ্যাত্মিক শক্তিগুলিকে গণ মানুষের জীবনে প্রয়োগ করার জন্য একটি চ্যানেল হয়ে ওঠা, একটি নতুন বিশ্ব সভ্যতা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার জন্য তাদের ক্ষমতায়ন করাকে ইহার মৌলিক লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে।


সামাজিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে উপলব্ধি করা এবং তাতে গঠনমূলক অবদান রাখার প্রয়াসে রুহি ইনস্টিটিউট সচেতনভাবে এমন দুটি তত্ত্বগত ধারণা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে, যেগুলো বহু দশক ধরে উন্নয়ন ও পরিবর্তন বিষয়ক চর্চায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। একদিকে, প্রতিষ্ঠানটি সেইসব তত্ত্বের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে, যেগুলো সামাজিক পরিবর্তনকে সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে। এই তত্ত্বগত ধারণাগুলো সমাজকে বিশ্লেষণ করে কেবলমাত্র ব্যক্তির মানসিক গঠন, দক্ষতা ও আচরণের ভিত্তিতে, এবং ধরে নেয় যে সমাজের কাঠামো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে, যদি ব্যক্তি “রক্ষা” পায়, কিংবা যথাযথভাবে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত হয়—হোক তা ধর্মীয় রূপান্তরের মাধ্যমে বা ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার মাধ্যমে। অন্যদিকে, রুহি ইনস্টিটিউট সেইসব তত্ত্বকেও প্রত্যাখ্যান করে যেগুলো মানুষকে কেবলমাত্র সমাজের উৎপাদিত একটি পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করে এবং মনে করে যে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয় যতক্ষণ না সামাজিক কাঠামো—বিশেষত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত ব্যবস্থাগুলো—মূল থেকে পরিবর্তিত হয়। ইতিহাসে অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেখানে তথাকথিত “ধার্মিক” বা “অত্যন্ত শিক্ষিত” মানুষরাও অত্যাচার ও অবিচারের কাঠামোর অংশ হয়ে পড়েছে। এসব উদাহরণ কোনো বিচক্ষণ পর্যবেক্ষককে এটা বিশ্বাস করতে দেয় না যে, শুধুমাত্র ব্যক্তির আত্মমুক্তির মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আসতে পারে, যদি না সেই প্রচেষ্টার সঙ্গে সামাজিক শক্তি ও কাঠামোর রূপান্তরের বিষয়টি যুক্ত থাকে। অন্যদিকে, মানব ইতিহাস ইতিমধ্যেই সেইসব ব্যবস্থার ভয়াবহ পরিণতি প্রদর্শন করেছে, যেগুলো ব্যক্তিস্বাধীনতাকে উপেক্ষা করে, এবং যারা তাদের নৈতিক ও সামাজিক বিধান নির্ধারণ করে ক্ষমতার কাঠামোয় পরিবর্তনের তথাকথিত অপরিহার্যতা থেকে—এমন এক পরিবর্তন, যা তাদের মতে যে কোনো মূল্যে সাধনযোগ্য।

রুহি ইনস্টিটিউট মানবসমাজের রূপান্তর প্রক্রিয়াকে, ব্যক্তির রূপান্তর এবং একটি নতুন সামাজিক কাঠামোর সচেতন নির্মাণ, এই দুইটি সমান্তরাল বিকাশের মধ্যে অধিকতর জটিল মিথস্ক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝার চেষ্টা করে। ইনস্টিটিউট মানুষকে কেবল প্রকৃতি এবং সমাজের মিথস্ক্রিয়ার একটি উৎপাদন হিসাবে দেখে না, একইভাবে সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনকে কেবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে না। বরং, এটি সমস্ত কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে - মানসিক, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত, শিক্ষাগত, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক - যার মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার ধারণার সম্পূর্ণ পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত। এটি সুস্পষ্ট যে প্রত্যেক মানবসত্তার মধ্যে আধ্যাত্মিক প্রকৃতির কোনো না কোনো মাত্রা বিকশিত, প্রত্যেকেই ঐশী শিক্ষার আলো দ্বারা আলোকিত হতে সক্ষম—এমনকি যখন সে সবচেয়ে দমনমূলক সামাজিক বাস্তবতার আবেষ্টনে অবস্থান করে। এই আলোকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, যদিও তারা কোনোভাবেই নিখুঁত বলে পরিগণিত হবে না, তবুও তারা সমাজরূপান্তরের এমন এক পথে অগ্রসর হয়—যে পথ কেবল ব্যক্তিগত মুক্তির পথ নয়, বরং অবিরাম প্রচেষ্টার মাধ্যমে নতুন সমাজ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রতিষ্ঠিত ও সুদৃঢ় করার পথ। এই নতুন প্রতিষ্ঠানসমূহ, যদিও তাদেরকে নিখুঁতভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, তবুও প্রারম্ভে ত্রুটিহীনভাবে কার্যকর নাও হতে পারে; তা সত্ত্বেও তারা মানবসমষ্টির জন্য এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আত্মা তাদের আধ্যাত্মিক বিকাশ ও রূপান্তরের যাত্রায় অগ্রসর হতে পারে। একদিকে ব্যক্তির আধ্যাত্মিক বিকাশ, অন্যদিকে নতুন সামাজিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া — এদের নিরবিচ্ছিন্ন মিথস্ক্রিয়া একত্রে চিহ্নিত করে সামাজিক পরিবর্তনের একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ, যা আত্মতুষ্টির স্থবিরতা ও সহিংসতার উন্মত্ততা—উভয়কেই পরিহার করে, এবং অতীতে মানবজাতি চক্রাকারে একবার নিপীড়ন ও আরেকবার অলীক স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে যাবার যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তাকে চিরস্থায়ী করার থেকে মানবজাতিকে মুক্ত করে দেয়। সমাজ পরিবর্তনের এই রূপকল্পের আলোকে রুহি ইনস্টিটিউট আধ্যাত্মিক এবং বৌদ্ধিক বিকাশে সহায়ক এমন কিছু ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে মানবসম্পদ বিকাশের জন্য ইহার বর্তমান প্রচেষ্টা পরিচালনা করে থাকে, যা নতুন কাঠামো প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি ব্যক্তির অবদানের প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়. তা সেই প্রেক্ষাপট গ্রাম, মফস্বল শহর, বা বৃহৎ নগর কেন্দ্র, যাই হোক না কেন।


রুহি ইনস্টিটিউটের অবধারণাগত কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল অংশগ্রহণের অবধারণা। যদিও এতদিনে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত অধিকাংশ কর্মসূচিই স্বীকার করে নেয় যে, কোনো সম্প্রদায়ের নিজস্ব উন্নয়নের পথে তাদের নিজেদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং বেশিরভাগ কর্মসূচিই নিজস্ব প্রকল্প ও ধারণা তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করে, তথাপিও এই অংশগ্রহণের প্রকৃতি, রূপ এবং পরিসর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ও ঐকমত্য সচরাচর পরিলক্ষিত হয় না। পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে উপস্থাপিত ধারণাগুলি অনুসরণ করে রুহি ইনস্টিটিউট জোর দিয়ে বলে যে সত্যিকার অর্থে এমন কার্যকর অংশগ্রহণ—যা সহজে রাজনৈতিক কারসাজিতে পর্যবসিত হবে না —তার জন্য প্রতিটি সম্প্রদায় এবং অঞ্চলে একটি পদ্ধতিগত শিক্ষণ-প্রক্রিয়া গড়ে ওঠা অপরিহার্য। যাতে সম্প্রদায়টি নিজেই নতুন ধারণা, নতুন পদ্ধতি এবং নতুন প্রযুক্তি ও কার্যপ্রণালী নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে, এবং অন্যদের সামাজিক পরীক্ষার বস্তুতে পরিণত না হয়ে, বরং নিজ রূপান্তরের কর্তা হয়ে ওঠে। অতএব, কোনো অঞ্চলে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপগুলির মধ্যে একটি হল শিক্ষণ-কার্যক্রমে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ব্যক্তির নিবিড় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা, যাতে তারা সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার অবস্থার উন্নয়ন এবং একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠানগুলো সৃষ্টি ও সুদৃঢ়ীকরণের জন্য জ্ঞান প্রয়োগের অবিরাম প্রচেষ্টায় নিরত থাকতে সক্ষম হয়।


সর্বজনীন অংশগ্রহণকে নীতি এবং লক্ষ্য—উভয় হিসেবেই ধারণ করে, রুহি ইন্সটিটিউট এমন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যা শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা ও ব্যক্তিগত অধ্যয়নকে সম্প্রদায়ে সেবামূলক কর্মের সঙ্গে যুক্ত করে। প্রতিটি শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে এমন একটি সক্ষমতাবর্ধক অভিজ্ঞতা হিসেবে গড়ে তোলা হয় যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এমন এক নতুন ধরণের সামাজিক কর্মীর বোধ, গুণাবলি, মনোভাব এবং দক্ষতা বিকশিত করতে সহায়তা করে—যার সমস্ত শক্তি নিবেদিত থাকে সম্প্রদায়ের কল্যাণ বৃদ্ধির দিকে, এবং যার কর্মকাণ্ড অনুপ্রাণিত হয় এক নতুন বিশ্ব–সভ্যতার রূপকল্প দ্বারা, যে  বিশ্ব–সভ্যতার সকল কাঠামো ও প্রক্রিয়ায় মূর্ত হবে মানবজাতির একত্বের মৌলিক নীতি।


রুহি ইনস্টিটিউটে, শিক্ষামূলক কার্যক্রমের নকশা এবং তার বাস্তবায়ন সর্বদা মানবসত্তার অন্তর্নিহিত মহত্ত্বের প্রতি গভীর বিশ্বাস দ্বারা পরিচালিত হয়। বাহাই লেখনীতে বলা হয়েছে:

মানুষ সর্ব গুণের আধার। যথাযথ শিক্ষার অভাব তাকে সেসব হতে বঞ্চিত করে যা তার সহজাত। ঈশ্বরের মুখ নিঃসৃত একটি শব্দের মাধ্যমে মানুষকে অস্তিত্ব প্রদান করা হয়েছে; অন্য আরও একটি শব্দের দ্বারা তাকে তার শিক্ষার উৎস চিনতে পরিচালিত করা হয়েছিল; আরও একটি শব্দের মাধ্যমে তার অবস্থান ও ভাগ্য সুরক্ষিত করা হয়েছিল। মহান সত্তা বলেন: মানুষকে অমূল্য রত্ন সমৃদ্ধ খনি হিসেবে বিবেচনা করবে। শিক্ষাই কেবল ইহার মধ্যে সঞ্চিত সম্পদগুলিকে উদ্ঘাটিত করতে এবং ইহা দ্বারা লাভবান হতে মানবজাতিকে সক্ষম করে তুলতে পারে।

শিক্ষা, অতএব, কেবল শুধু জ্ঞান আহরণ বা দক্ষতা অর্জনের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয় না; বরং প্রত্যেক মানবসত্তার ভেতরে নিহিত বিপুল ও শক্তিশালী সামর্থ্যগুলোর বিকাশ হিসেবেও পরিগণিত হয়। আবার, এসব সম্ভাবনা ও প্রতিভার বিকাশ—যা ব্যক্তির ঈশ্বরপ্রদত্ত অধিকার ও দায়িত্ব—পূর্ণতা লাভ করে তখনই, যখন তা মানবতার সেবার চেতনায় এবং এক নতুন বিশ্বসভ্যতা নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে সাধিত হয়।

রুহি ইনস্টিটিউটের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক কার্যক্রমে শিক্ষার্থী হিসেবে এবং অপর কিছু কার্যক্রমে টিউটর হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। তাই ইনস্টিটিউট তার সকল অংশগ্রহণকারীদেরকে বোঝাতে “সহযোগী/দোসর” শব্দটি ব্যবহার করে। ইনস্টিটিউট যে জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদান করে, তাদের পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুসারে কোর্সসমূহ এমন কিছু “সেবার পথ” ধরে সাজানো হয়, যা একজন সহযোগী তার ব্যক্তিগত আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী অনুসরণ করে। কোনো সেবাপথের শুরুতে সহযোগীরা মূলত নতুন অবধারণা ও দক্ষতা শিখে এবং বিকাশ করে। পরবর্তীকালে তারা এমন কোর্সে অংশ নেয় যা তাদেরকে আগের কোর্সগুলোর টিউটর হিসেবে ভূমিকা পালন করার জন্য প্রস্তুত করে—এভাবে মানবসম্পদ বিকাশের জন্য এক অনন্য ও গতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

উপরের পাঠ্যে নিম্নলিখিত নথিগুলোর বহিঃসংযোগ দেখা যায়

“মানবজাতির সমৃদ্ধি” । বাহা’ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জনসংযোগ দপ্তর কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি বিবৃতি, যেখানে বৈশ্বিক সমৃদ্ধির প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

“বিজ্ঞান, ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ে এক আলাপচর্চার প্রসার” পদার্থবিদ ও ফান্ডায়েক (FUNDAEC)-এর প্রতিষ্ঠাতা — ফারজাম আরবাব কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি প্রবন্ধ।

“বিজ্ঞান, ধর্ম ও উন্নয়ন: কিছু প্রারম্ভিক বিবেচনা”। বিশ্বের জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যাণের  বিকাশ সাধনে নিয়োজিত ব্যক্তি ও সংগঠনসমূহের অভিজ্ঞতা থেকে সঞ্চিত জ্ঞানকে সুবিন্যস্ত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান Institute for Studies in Global Prosperity কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি বিবৃতি।

টীকা

  1. আরো দেখুন: “বিজ্ঞান, ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ে এক আলাপচর্চার প্রসার, “মানবজাতির একতা”, পৃষ্ঠা ১৯৮; “মানবজাতির সমৃদ্ধি”, ভাগ ১

  2. আরো দেখুন: “বিজ্ঞান, ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ে এক আলাপচর্চার প্রসার, “আধ্যাত্মিক মূলনীতিসমূহ এবং জ্ঞানের ভূমিকা” পৃষ্ঠা ১৯৬

  3. আরও দেখুন: “বিজ্ঞান, ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ে এক আলাপচর্চার প্রসার, "উন্নয়নের দিকনির্দেশনা", পৃষ্ঠা ১৬১; ibid., "রাষ্ট্র এবং বাজার", পৃষ্ঠা ১৭৪

  4. আরও দেখুন: “বিজ্ঞান, ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ে এক আলাপচর্চার প্রসার, "স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়ন", পৃষ্ঠা ২০৪

  5. আরও দেখুন: “বিজ্ঞান, ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ে এক আলাপচর্চার প্রসার, "ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব", পৃষ্ঠা ২১১; মানবজাতির সমৃদ্ধি, ভাগ ৬

  6. আরও দেখুন: “বিজ্ঞান, ধর্ম এবং উন্নয়ন: কিছু প্রারম্ভিক বিবেচনা, "ঐতিহাসিক পটভূমি", পৃষ্ঠা ৩

  7. আরও দেখুন: “বিজ্ঞান, ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ে এক আলাপচর্চার প্রসার, "জ্ঞানের ভূমিকা", পৃষ্ঠা ২০৫; ibid., "সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন", পৃষ্ঠা ২১৩

  8. আরও দেখুন: “বিজ্ঞান, ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ে এক আলাপচর্চার প্রসার, "মাহাত্ম্য", পৃষ্ঠা ১৭৫

  9. কিতাব-ই-আক্বদাসের পরে অবতীর্ণ বাহাউল্লাহর ফলকলিপিসমূহ, লওহ-ই-মাকসুদ (মাকসুদের ফলকলিপি)