আমরা ভারতের গ্রামীণ এলাকায় কিশোর আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কিছু মন্তব্য শেয়ার করতে পেরে আনন্দিত







আমরা ভারতের গ্রামীণ এলাকায় কিশোর আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কিছু মন্তব্য শেয়ার করতে পেরে আনন্দিত
গ্রামের সবচেয়ে খারাপ জিনিসটি হচ্ছে জাতপাতগত কুসংস্কার। জাতপাতের কারণে মানুষ মারামারি করে। আমার মনে হয় আমাদের এই জাতপাতগত কুসংস্কারকে অতি দ্রুত পরিবর্তন দরকার। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করা উচিত। এই জাতপাতের কারণে এখানে মারামারি লেগেই থাকে।
. . . উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি উঁচু জাতের হয় এবং আপনি যদি নিচু জাতের হন, তবে উঁচু জাতের লোকেরা আপনাকে তাদের বাড়িতে পা রাখতে দেবে না। কিন্তু আমার মনে এধরণের চিন্তা নেই। আমি মনে করি তারা আমার বাড়িতে এসেছে, তাই তারা আমার সাথে বসবে, আমার সাথে প্রার্থনা করবে। যেমনটি আমরা [কিশোরদের/জুনিয়র ইয়ুথদের] বইয়ে পড়ি, আমাদের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করা, যাতে সব ধরণের কুসংস্কারের অবসান হয়।
মূলতঃ আমি শিখেছি যে, আমাদের জীবনে আমাদেরকে বেছে নিতে হবে যে আমরা কীভাবে সেবা করতে পারি - কীভাবে আমরা উত্তম হতে পারি । আমাদেরকেই আমাদের প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এবং আমি মনে করি আমি একজন শিক্ষক হব। আমি বাচ্চাদের এই জিনিসগুলি শেখাব। আমি এটা করার চেষ্টা করছি এবং এখন আমি আমার মায়ের স্কুলে শিক্ষাদান করছি।
. . . বইগুলো থেকে আমি শিখেছি যে আমাদের ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যদি আমরা কিছু করার চেষ্টা করি এবং তা অর্জনের জন্য আমরা সংগ্রাম করি, তাহলে আমাদের তা ফেলে সোজা বাড়ি যাওয়া উচিত নয়। আমাদের কাজটি সম্পন্ন করা উচিত, এবং তারপরেই ফিরে আসা উচিত। সেই ব্যাঙের গল্পের মতো - আমাদের সেইভাবে কাজ করা উচিত। প্রথম ব্যাঙটি পড়ে গেল এবং চেষ্টা করল না। দ্বিতীয়টি মন্থন করার চেষ্টা করেছিল এবং তার ফলাফল হল ক্রিম ও মাখন। এইভাবে, আমাদেরও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। . . . আমি আমার পড়াশোনায় এটি প্রয়োগ করার চেষ্টা করি - আমি ক্রমাগত প্রচেষ্টা করি এবং অগ্রগতি করতে থাকি।
আমি শুধু খেলতাম। আমি বাড়িতে কোনও কাজ করতাম না এবং আমার মা এবং বাবার উপদেশগুলো শুনতাম না। পড়াশোনা আমার একদম ভালো লাগত না এবং আমি পড়াশোনায় মনোযোগও দিতাম না। যখন আমি এই ক্লাসে যোগদান করি এবং মাসন্দা এবং রোজের অভিজ্ঞতা এবং তারা কীভাবে পড়াশোনা করে এবং কীভাবে তারা তাদের মা এবং বাবার সাথে থাকে তা দেখি, তখন আমার হৃদয় আকৃষ্ট হয়। সেই সময় আমি অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করি যে পড়াশোনা করার আগে আমাদের একটি লক্ষ্য বেছে নিতে হবে যে পড়াশোনার পরে আমরা কী হতে চাই।
আমার গ্রামে অনেক মানুষ ধর্মীয় মৌলবাদী এবং অনেকেই সবসময় লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকে। তারা ছোটখাটো বিষয় নিয়েও লড়াই করে। কেউ মনে করে যে, কোথাও যদি সামান্য জমি থাকে এবং সে তা দখল করে নিতে পারে, তবে সে জমি তার। . . . আমারও কিছু জমি ছিল এবং তা দখল করা হয়েছিল। আমার বাবা মামলা দায়ের করেছিলেন, তারপর আমরা সে মামলা তুলে নিয়েছিলাম কারণ লোকটি একজন অপরাধী এবং দাঙ্গাবাজ ছিল, এবং আমরা অসহায় ছিলাম। গ্রামে একটি পঞ্চায়েত [গ্রাম পরিষদ] সভা ডাকা হয়েছিল। সভায় অনেকেই বলেছিল, "তুমি অসহায়। মামলা বন্ধ করো।" তাই মামলা বন্ধ হয়ে গেল, তারপর এটা এভাবেই ঠিক হয়ে গেল। আমরা কিছুই করিনি। আমি সন্তুষ্ট ছিলাম এবং ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। কারও কাজ যেমনই হোক, ফলও তাই হবে। . . .
এটা দেখার পর আমি ভাবলাম, "যদি এটা এভাবে না হয় তাহলে কেমন হবে? যদি ঐক্য এবং ভালোবাসা আসে এবং এই সেবার চিন্তাভাবনা আসে?" আমি গ্রামে এই সবকিছুর জন্য কাজ করার কথা ভাবি। এটি করার জন্য, আমাদের অগ্রগতি করতে হবে, তাহলে কেন আমি গ্রামের উন্নতিতে এবং এই পরিবর্তনগুলি আনতে সাহায্য করব না? তাই আমি এই লক্ষ্যে কাজ করছি।













. . . পড়াশোনার পাশাপাশি আমার গ্রামের উন্নয়নেও সাহায্য করা দরকার। আমি এমন কিছু করতে চাই যাতে গ্রামের কিছুটা উন্নতি হয় এবং আমিও আমার পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারি। তাই এখন আমি পড়াশোনা করছি, এবং এই বিষয়ে আমি ভাবছি যে আমি ছোট বাচ্চাদের শিক্ষাদান করব, এবং যে সামান্য টাকা পাব তা দিয়ে আমি আমার পরিবারকে সাহায্য করব এবং আমার নিজের খরচও বহন করব। আমি বাচ্চাদের পড়াই এবং নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছি।
"নিশ্চয়তার সমীরণ"-এ, চিশিম্বার বাবা চাকরি হারান, এবং আমি তার উদাহরণের পাশাপাশি গডউইনের উদাহরণের কথাও ভাবি। আমি এমন এক কাজের কথা ভাবার চেষ্টা করি যা আমি করতে পারি এবং যা অন্য কেউ করতে পারে না। আমি একটি ছাপাখানায় কাজ খুঁজে পাই এবং সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৮ ঘন্টা কাজ করি এবং আমার পড়াশোনার খরচ বহন করার জন্য যথেষ্ট আয় করি। আমি গিয়ে আমার গ্রামের একজন লোকের সাথে কথা বলি এবং আমার সমস্যা তাকে বুঝিয়ে বলি এবং তিনি আমাকে কাজ দেন। এখন আমি ভোর ৩টায় ঘুম থেকে উঠি, দেড় ঘন্টা পড়াশোনা করি, তারপর আমার জলখাবার(নাস্তা) তৈরি করি এবং খাই। সকাল ৬টায় আমি টিউশনে যাই এবং সকাল ১১টা পর্যন্ত সেখানে থাকি। তারপর খাওয়ার পর, আমি ১১:৩০ টায় কাজে যাই।
এখানে, বাচ্চারা সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে, এবং তারপর তারা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কোথাও যায় না। কিছু বাচ্চা এমনকি মাঝপথে ঝরে পড়ে। আমি বাড়িতে কিছু বাচ্চাদের জন্য টিউটোরিয়াল ক্লাস দেওয়া শুরু করি। ক্লাসের একজন মেয়ে খুব ভালো ফল করেছিল। এখানে পরীক্ষা দেওয়ার পর, সে পাশের গ্রামের স্কুলে ভর্তি হয় এবং প্রতিদিন সেখানে যায় এবং ফিরে আসে। যত যাইহোক, সে এখানে আসতেই থাকে এবং আমি তাকে সাহায্য করি।
আমি একজন অ্যানিমেটর হতে চেয়েছিলাম কারণ আমার আগের গ্রুপের অ্যানিমেটর যেভাবে জিনিসগুলি ব্যাখ্যা করতেন তা থেকে আমি শিখেছিলাম। প্রত্যেক ব্যক্তির দায়িত্ব হল তারা যা শিখেছে তা অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া - এটাই সবচেয়ে ভালো। ঠিক যেমন একটি ফুল, যখন এটি ফোটে, তার সুবাস সর্বত্র ছড়িয়ে দেয় এবং সবাই বলে, "ওহ, কী সুন্দর ফুল, কী সুন্দর সুবাস!" আমাদেরও সেরূপই হওয়া উচিত - আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।
আগে আমার পরিবার বলত মেয়েদের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। কিন্তু এখন তারা বলে, "না। মেয়ে এবং ছেলে সমান। সে বাইরে যাবে, এবং সে পড়াশোনা করবে এবং শিখবে।"